মোঃ খোরশেদ আলম:
নারায়ণগঞ্জ জেলা করোনা ভাইরাসের জন্য লকড ডাউন। ডেঞ্জার জোনে জনজীবন বিপর্যস্ত। আমার দায়িত্ব প্রাপ্ত এলাকার মধ্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম হাইওয়ের অনেকাংশ। সারা বাংলাদেশের ব্যস্ততম রাস্তা এটা। কাঁচপুর হয়ে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ও আমার দায়িত্ব প্রাপ্ত অঞ্চলের আওতাধীন।

এই দুটি হাইওয়ে কন্ট্রোল করতে পারলে দেশের অর্ধেকের বেশি যানবাহন কন্ট্রোল করা সম্ভব! প্রচুর জনসমাগম, পণ্যবাহী ট্রাক রাত দিন ২৪ ঘন্টাই এই হাইওয়েতে।
করোনা যেহেতু সংক্রামক রোগ৷ জনসমাগম এড়ানো নিয়ন্ত্রণ ছাড়া আর অন্য কোন উপায় আপাতত নাই করোনা ভাইরাস নিয়ন্ত্রণ করতে। নারায়ণগঞ্জে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই স্বাভাবিকভাবেই অন্যান্য কর্ম সম্পাদনের পাশাপাশি এই হাইওয়ের নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করতে হয়েছে ।
করোনা ভাইরাসের জন্য আবারো হাইওয়েতে। এবারের কার্যক্রম অন্যান্য দিনের মত সাধারণ ছিল না।
লোকজন কে যতটা সম্ভব বুঝিয়ে ফেরত পাঠিয়েছি৷ তল্লাশি বাড়িয়ে দিয়েছি৷ বাংলাদেশ পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা ও ছিল এই হাইওয়ে কন্ট্রোলের জন্য৷

সরকার ঘোষিত জরুরি পরিসেবা যেমন বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস, ইন্টারনেট, ফায়ার সার্ভিস, পরিচ্ছন্নতা সংশ্লিষ্ট, চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত, ঔষধ শিল্পে জড়িত, খাদ্য ও কৃষি উৎপাদন পরিবহনে জড়িত যানবাহন ছাড়া অন্য কোন যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা নিশ্চিত করণ কাজে সার্বক্ষণিক আছি।
ঢাকা রেঞ্জের আমাদের সকলের শ্রদ্ধেয় অভিভাবক , আমাদের অনুপ্রেরণার বাতিঘর, বাংলাদেশ পুলিশের জীবন্ত কিংবদন্তী, ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি, জনাব হাবিবুর রহমান বিপিএম(বার), পিপিএম(বার) মহোদয় এবং নারায়ণগঞ্জ জেলার সুযোগ্য পুলিশ সুপার জনাব মোহাম্মদ জায়েদুল আলম,পিপিএম(বার) মহোদয়ের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি যাঁদের নির্দেশনায় সকল কাজ সহজে সম্পাদন করতে সক্ষম হচ্ছি ।

আপনারা যারা যারা এই দুর্দিনে, ক্রাইসিস মোমেন্টেও দরকার ছাড়া এই হাইওয়ে ইউজ করতে চান প্লিজ আপনারা দেশের কথা না ভাবলেও অন্তত নিজের পরিবারের কথা ভাবুন। আপনি আক্রান্ত হওয়া মানে আপনার পরিবার আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা খুবই বেশি । লকড ডাউন মানে লকড ডাউন৷ সুনির্দিষ্ট প্রমাণ আর উপযুক্ত কারণ দর্শানো ছাড়া আপনি যেই হোন না কেন আমার দায়িত্ব প্রাপ্ত অঞ্চলের মধ্য প্রবেশাধিকার সীমাবদ্ধ।নাগরিক পরিসেবা নিশ্চিত করা আমার কাছে আমানত।
ঘরে থাকুন৷ নিরাপদ থাকুন৷ সতর্ক থাকুন।
লেখক: অতিরিক্ত পুলিশ সুপার
নারায়নগঞ্জ ‘খ’ সার্কেল।