কৃষকের বোরো ধান ক্ষেতে দেখা দিয়েছে নেক ব্লাস্ট রোগ। এ রোগে আক্রান্ত হয়ে কৃষকের উঠতি ফসল পুড়ে নষ্ট হবার উপক্রম। কৃষি বিভাগের পরামর্শে বালাই নাশক প্রয়োগ করেও কোনো প্রকার প্রতিকার পাচ্ছেন না কৃষকরা। তারপরও হাল না ছেড়ে দিনভর কৃষকরা ব্যস্ত থাকছেন ফসলি ক্ষেত রক্ষার কাজে। ফসলি ক্ষেত ধান নষ্ট হয়ে যাওয়ায় কিভাবে ব্যাংক ও মহাজনের ঋণের টাকা শোধ করবেন এই চিন্তায় দিশেহারা চাষিরা।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, এবার ৮ হাজার ৭৫০ হেক্টর বোরো চাষের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে চাষ হয়েছে ৮ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে।
অপরদিকে কৃষক এমরান, খোকন, আবদুল রশিদ জানান, এ রোগের আক্রমণে উৎপাদন কমে যাবে। কোন কোন ক্ষেতের ধান সব চিটা হয়ে যাচ্ছে। ধানের ফলন না পেলে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হবো। আমাদের মারাত্মক বিপাকে পড়তে হবে।
ভামড্যা গ্রামের হতদরিদ্র কৃষক আলী মিয়া বলেন, ‘আমি সাড়ে ৩ বিঘা বর্গা নেওয়া জমিতে বোরো চাষ করছি। এখন পুরো ধান ক্ষেতে এমন রোগে ধরছে, সন্ধ্যায় রেখে যাই এক রকম আর সকালে এসে দেখি আরেক রকম। দিন দিন সব ধানের শীষ শুকিয়ে যাচ্ছে। একদিকে সেলোমেশিনের খরচ অন্যদিকে মহাজনের জমি বাবদ ধান। কোনটা কিভাবে দেব ভেবে পাচ্ছি না। বাড়িতে ছাগল, মুরগি যা ছিল সব বিক্রি করে আবাদ করেছি এখন তো ধানের সঙ্গে আশা-ভরসা সব জ্বলে পুড়ে ছাই হয়ে গেল। কোনও ওষুধ দিয়েও তো কাজ হচ্ছে না। এখন আমি কী খাব আর জমির মালিককে কী দেব?’