শিরোনাম
  লাকসামে টানা ৪০ দিন নামাজ পড়ে সাইকেল পেল ১৯ শিশু-কিশোর       লাকসামে নেসলে বিডি’র গোডাউনে অগ্নিকান্ডে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি       লাকসামের সাখাওয়াত হোসাইন মামুন জেসিআই বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন’র চেয়ারম্যান নির্বাচিত       কুমিল্লায় নিখোঁজের তিন দিনেও সন্ধান মিলেনি স্কুল ছাত্র ইয়াসিন আরাফাতের        লাকসামের আজগরা হাজী আলতাপ আলী হাইস্কুল এণ্ড কলেজের এসএসসি পরিক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা       কিছু বিপদগামী নেতা দলের ভেতর অন্তঃকোন্দল সৃষ্টি করার পায়তারা করছে: আজগরা ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল       এএসপি আনিসুল করিমের কবরে বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের শ্রদ্ধাঞ্জলি       অনলাইনে কুমিল্লা সরকারি সিটি কলেজে একাদশ শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষা শুরু       প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ       লাকসাম পৌর নির্বাচনে মেয়র পদে সম্ভাব্য প্রার্থী নবাব ফয়জুন্নেছার পরিবারের সদস্য আয়াজ    


এম এস দোহা:

করোনা আক্রান্ত হওয়া কি অপরাধ? এ রোগে উপসর্গ আক্রান্ত নিয়ে কিছু অনাকাঙ্খিত ঘটনার পর্যালোচনা করলে অনেকটা এরকমই মনে হয়। অমানবিক, দুঃক্ষজনক ও আনাকাঙ্খিত এসব ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে আমাদের ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধ নিয়ে। বিষয়টির গুরুত্ব উপলব্ধির পর স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নিজেই ব্যাথিত। ধর্মীয় আলেমরা মর্মাহত। জাতীসংঘের স্বাস্থ্য সংস্থার মতে মৃত্যুর পর করোনার রোগীর দেহে উপসর্গ থাকে না। তাহলে করোনা রোগীর মৃত দেহ নিয়ে অনাকাঙ্খিত প্রেক্ষাপটের কেন?
বাংলাদেশের এ ধরনের উদ্বেগ ও অমানবিক ঘটনায় করোনা রোগীকে মানবিক সহযোগিতা ও সমবেদনা প্রকল্পে জনগনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উল্লেখ্য করোনা বিশ্বের চলমান সমস্যা। অথচ কাশি দিতে দেখলেই সামাজিকভাবে বয়কট, অবজ্ঞা, অবহেলার প্রবণতা দৃশ্যমান। সেই সাথে সর্দি-জ্বরের রোগীদের চিকিৎসা গ্রহনে করেছে সমূহ সংকট হাসপাতালগুলো এ উপসর্গের রোগী দেখলে আতঙ্কে ভোগেন। কারণ ইতিমধ্যেই ডাক্তার, নার্স, পুলিশ ও সাংবাদিকদের অনেকই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে করোনায় আক্রান্ত। চিকিৎসা অভাবে রোগী মারা যাওয়ার পরবর্তীতে জানা যায় তিনি আদৌ করোনা আক্তান্ত ছিলেন না। সামাজিক অবহেলা ও অবজ্ঞাসহ এসব কারণে অনেকের করোনা উপসর্গ থাকলেও তা স্বীকার করতে নারাজ। গত ৮এপ্রিল শেরপুর সদর হাসপাতালে দুই করোনা আক্রান্ত রোগীকে নিয়ে তিন এমপির মধ্যে শুরু হয় ¯œায়ুযুদ্ধ। নিজ নির্বাচনী এলাকার হাসপাতালে তারা এসব রোগী ভর্তি করতে নারাজ। যা পত্র-পত্রিকার শিরোনাম হয়। এঘটনা থেকে সহজে অনুমেয় দেশব্যাপী করোনা আক্রান্ত ও সম্ভাব্য রোগীদের অবহেলা, অবজ্ঞার বিষয়টি। রোগীদের প্রতি আমরা কি ধরনের অমানবিক আচরণ করে যাচ্ছি এর মাধ্যমে তা সহজেই অনুমেয়। গ্রামগুলোতে লকডাউনের নামে বাঁশের স্থায়ী বেড়া দিয়ে যেভাবে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছে তা ভয়াবহ। জরুরী প্রয়োজনে এম্ব্যুলেন্স ও ফায়ার সার্ভিসের বিষয়টিও কারো মাথায় নেই। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার অর্থ এই নয় যে, আমরা মানবিক ও সামাজিক অন্যান্য বিষয়গুলো বিসর্জন দিব। কারণ অদৃশ্য এমনসব সামাজিক কর্মকান্ড আছে, যা তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে এখন রাষ্ট্রিয়ভাবেও হচ্ছে আদান প্রদান।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, করোনায় বাসাবাড়িতে ধর্মীয় কর্মকান্ড বেড়েছে সত্য। কিন্তু সামাজিক কর্মকান্ডে এই ধর্মীয় বিধিবিধান কতিপয় ক্ষেত্রে হচ্ছে উপেক্ষিত। জনগনকে জিম্মি করে অহেতুক দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, রিলিফ চুরি, চাঁদাবাজী অবশ্যই ধর্ম বিরোধী কাজ। এখন এর সাথে যোগ হয়েছে করোনা রোগীর প্রতি ঘৃণা, অবহেলা ও অমানবিক আচরণ। যা দেখলে ও পর্যালোচনা করলে প্রশ্ন জাগে এটাইকি আমাদের সামাজিক, রাজনীতি? এটাই কি ইসলামী মূল্যবোধ? পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত এই করোনা রোগী এ বিষয় এধরনের ইতিবাচক সংবাদগুলো আমাদের কি মেসেজে দিচ্ছে।
টাঙ্গাইলের সখীপুরে করোনা আক্রান্ত সন্দেহে এক মহিলাকে তার সন্তান, স্বামী ও স্বজনরা বনের ভিতরে ফেলে দেয়। উল্লেখ্য ২৫শে এপ্রিল রাতে এই মহিলার চেঁচামেচির শব্দ শুনে ওই এলাকার কয়েকজন মানুষ জঙ্গলের ভিতরে এগিয়ে যান। তাকে দেখে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানালে পুলিশ ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাক্তার ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই মহিলা উদ্ধার করে। তার বাড়ি শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে। স্বামী-সন্তান নিয়ে গাজীপুরের সালনায় পোশাক কারখানায় কাজ করেন। তিনি করোনা আক্রান্ত সন্দেহে তার স্বামী-সন্তান আর স্বজনরা বাড়ি নেওয়ার আশ্বাসে তাকে জঙ্গলে ফেলে রেখে যান। পরে পরীক্ষা করে দেখা গেছে, সেই মহিলা করোনায় আক্রান্ত নন।

সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় প্রতিবেশীর বাড়ি যাওয়ায় করোনা সংক্রমিত হয়েছেন এমন সন্দেহে অশীতিপর বৃদ্ধা মাকে গ্রামছাড়া করে জন্মদাতা ছেলে ও প্রতিবেশীরা। অসহায় ওই বৃদ্ধা চার দিন খাবার আর আশ্রয়ের খোঁজে মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরেন। বৃদ্ধা অমৃতবালা জানান, ে হোমকোয়ারেনটাইন অমান্য করে ঢাকাথেকে গ্রামে আসা এক প্রতিবেশির বাড়িতে যাওয়াটাই ছিল তার অপরাধ। তাই তার দুই ছেলে ও ছেলের বউয়েরা তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়।

ফেনীর শর্শা দিতে ৬০ বছর বয়সী হাজেরা বেগম মৃত্যুবরণ করেন ঢাকায়। করোনা আক্রান্ত সন্দেহে তার লাশ দাফনে বাধা দেন এলাকাবাসী। গ্রামবাসীর বাঁধা ও হামলার শিকার হয়েছেন মৃত ব্যক্তির সন্তানেরা। উল্লেখ্য হাজেরা বেগম রাজধানী ঢাকার কল্যাণপুরের একটি বেসরকারি কিডনি হাসপাতালে মারা যান। মৃতদেহবাহী এম্বুলেন্সটিও গ্রামে ঢুকতেই একপর্যায়ে কিছু লোক লাঠিসোঁটা নিয়ে ভাঙচুর চালায়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাক্তার হামিদা মুস্তফা সেঁওতি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে নিজেই অসুস্থ হয়েপড়েন। করোনার উপসর্গ দেখা দেওয়ায় লোকজনের অসামাজিক আচরণের রাতের অধারে পালিয়ে আসতে বাধ্য হন। ময়মনসিংহের চড়পাড়া নয়াপাড়া এলাকায় স্বামীর ভাড়া বাসায়। সেখানেই কোয়ারেন্টাইনে ছিলেন তিনি। তার স্বামীও ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডাক্তার। কিন্তু বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় কাউন্সিলর, পুলিশ ও সিভিল সার্জন ওই চিকিৎসক দম্পতিকে নগরের এস কে হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে নিয়ে আসেন। ময়মনসিংহ মেডিকেলের একটি কেবিনে কোয়ারেন্টাইন করে রাখা হয় তাদের। আত্মীয় স্বজন ও প্রতিবেশীদের কথাবার্তা ও আচার-আচরনে মানসিকভাবে দারুন মর্মাহত হন এই দম্পতি। মনের দুঃখ ও কষ্টে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থান ফেসবুকে এক আবেগঘন স্ট্যাটাসে ডা. সেঁওতি বলেন, ‘সবাই বলছে কাউকে বলো না। কেন বলব না? না বললে আমার দ্বারা অন্যরাও আক্রান্ত হতে পারে। আমি তো কোনো দোষ করিনি। আমি আপনাদের সেবা করতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছি। লকডাউনে যখন আপনারা বাড়িতে বসে সময় কীভাবে কাটাবেন তা নিয়ে দুশ্চিন্তা গ্রস্থ। তখন আমি হয়তো কোনো কভিড-১৯ পজিটিভ ব্যক্তির পাশে দাঁড়িয়ে। হ্যাঁ, আমি হয়তো কভিড-১৯ পজিটিভ। এতে আমার কোনো লজ্জা বা ভয় বা আফসোস নেই। বরং আমি খুব গর্বিত। কারণ আমি শেষ দিন পর্যন্ত কাজ করে এসেছি। এখন যদি মরেও যাই আমার আফসোস থাকবে না। কারণ, আমি ডাক্তার হিসেবে যে শপথ নিয়েছিলাম তা পালন করে এসেছি। আমি যত দিন পেরেছি আপনাদের জন্য হাসপাতালে এবং মাঠে কাজ করেছি। স্ট্যাটাসটি মুহুর্তেই ভাইরাল হয়। অতপর সন্ধ্যায় মেডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাবে ওই দম্পতির করোনা পরীক্ষায় রেজাল্ট ‘ নেগেটিভ’ আসে। অর্থাৎ তারা দুজন করোনায় আক্রান্ত নন।
চলমান করোনা সংকটে এ ধরনের শত শত মানবিক, অমানবিক, অসমাজিক প্রেক্ষাপট ও অনাকাংঙ্খিত ঘটনা চলমান। যার পরিসংখ্যান অনেক বড় হওয়ার কথা। অনেক লোক লজ্জার ভয়ে মিড়িয়ার সামনে আসেনি। সম্মানিত পাঠক এবার একটু চোখ বন্ধ করে ভাবুন। ধরুন আপনি নিজেই করোনা আক্রান্ত। রোগী হিসাবে মানসিক ও সামাজিক সহানাভূতি নিশ্চয় আপনার কাম্য। কিন্তু করোনার আসামী হিসাবে রিমান্ডে নিয়ে এ ধরনের মানসিক নির্যাতন করলে কেমন লাগবে আপনার?




লাকসামে টানা ৪০ দিন নামাজ পড়ে সাইকেল পেল ১৯ শিশু-কিশোর

লাকসামে নেসলে বিডি’র গোডাউনে অগ্নিকান্ডে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

লাকসামের সাখাওয়াত হোসাইন মামুন জেসিআই বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন’র চেয়ারম্যান নির্বাচিত

কুমিল্লায় নিখোঁজের তিন দিনেও সন্ধান মিলেনি স্কুল ছাত্র ইয়াসিন আরাফাতের 

লাকসামের আজগরা হাজী আলতাপ আলী হাইস্কুল এণ্ড কলেজের এসএসসি পরিক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা

কিছু বিপদগামী নেতা দলের ভেতর অন্তঃকোন্দল সৃষ্টি করার পায়তারা করছে: আজগরা ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল

এএসপি আনিসুল করিমের কবরে বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের শ্রদ্ধাঞ্জলি

অনলাইনে কুমিল্লা সরকারি সিটি কলেজে একাদশ শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষা শুরু

প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ

লাকসাম পৌর নির্বাচনে মেয়র পদে সম্ভাব্য প্রার্থী নবাব ফয়জুন্নেছার পরিবারের সদস্য আয়াজ

নাঙ্গলকোটে পুলিশের গুলিতে স্কুুল ছাত্রসহ ২ জন গুলিবিদ্ধ: এএসআই আবদুর রহিমের কর্মকান্ডে এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ

লাকসামে তিনজনের শরীরে করোনার উপসর্গ : আইইডিসিআর-এ নমুনা প্রেরণ

প্রবাসীদের নিয়ে নাঙ্গলকোটের ইউপি মেম্বার জুলাসের কটুক্তি: দেশ-বিদেশে প্রতিবাদের ঝড় 

লাকসামের মুদাফরগঞ্জ বাজারে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে ব্যবসায়ী খুন

নাঙ্গলকোটে বিএনপি অফিসে তালা দিলেন আওয়ামী লীগ নেতা: অভিযোগ বিএনপি নেতার

নাঙ্গলকোটে চাচার সেফটি ট্যাঙ্ক থেকে ভাতিজার বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার!

লাকসামের জনপ্রিয় গাইনী বিশেষজ্ঞ ডা. লতিফা আহমদ লতা করোনায় মারা যাওয়ার গুজব ছড়ানো হলেও শতভাগ সুস্থ

লাকসামের সেই দুই সহোদরের পরিবারের নতুন ৬ জন করোনায় আক্রান্ত : সর্বমোট আক্রান্ত ১০

স্ত্রী ও সন্তানের স্বীকৃতি পেতে ডেনমার্ক থেকে নাঙ্গলকোটে এলেন এক নারী

নাঙ্গলকোটে আট বছর বয়সী চাচাতো বোনকে মুখ চেপে ধর্ষণ করতো আপন জেঠাতো ভাই