আবদুল আজিজ:
বিশ্ব আজ দ্বিকবিদিকশূন্য অজানা সংকটে মূহ্যমান। একথা আমাদের অজানা নয় যে, আদিম যুগে মানুষ বেঁচে থাকার তাগিদে প্রথমে আগুন আবিষ্কারের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে। তারপর পাথরে পাথরে ঘর্ষণের সাহায্যে আগুন জ্বালাতে শেখে। সেই আগুনের সাহায্যে তারা কোনরকম গোশত সেকেঁ খেত। অন্ধকার গুহায় আলোর ব্যবস্থা করতো।আস্তে আস্তে মানুষ সভ্যতার যুগে পদার্পণ করে। কালর বিবর্তনে এখন বিদ্যুৎ এর ব্যবহার সর্বত্র। আমরা জানি যখন যে জিনিস থাকে না তখন তার কদর বেশি থাকে। আর যখন যে জিনিস থাকে তখন তার কদর থাকে না। অর্থাৎ বর্তমানে আমরা বিদ্যুতের বহুবিধ ব্যবহার শিখেছি।
শহরে বন্দরে, গ্রামে-গন্জে এবং প্রত্যন্ত পল্লীতেও আজ বৈদ্যুতিক বাতির আলো চোখে পড়ে। কালে কালে বহু চেষ্টা/গবেষণার ফলে বিদুত্যের যে সুবিধা এখন আমরা পাচ্ছি, সেই বিদ্যুতের যেন অপচয় না হয় সেদিকে আমাদের সকলের সজাগ বিশেষ দৃষ্টি প্রয়োজন। আপনার ঘরে, বাড়ির আঙ্গিনায়, বাগানে, রাস্তায় প্রভৃতি স্হানে বৈদ্যুতিক লাইট সংযোগ থাকতে পারে। ঘরের বাইরের লাইনগুলো শুধু রাতের বেলায় বাতি জ্বালালেই চলে। তাই সন্ধ্যাবেলায় এসকল স্থানে আলো জ্বালানোর যেমন প্রয়োজন তেমন ভোরবেলায় তা নিভানোর প্রয়োজন সমধিক। নতুবা অহেতুক বিদ্যুৎ অপচয় হবে এবং বিদ্যুৎ বিল বৃদ্ধি পাবে।
আপনার ঘরের কথায় আসা যাক। ধরুন সারাদিন একটি বৈদ্যুতিক পাখা অযথা ঘুরছে। অথবা এয়ার কুলারটি চালু অবস্থায় আছে। নতুবা অবৈধভাবে বৈদ্যুতিক হিটার জ্বালানো হচ্ছে। এতে বিদ্যুৎ বিল তো বেশি আসবেই। আপনার বাড়ির মত এররকম আরো কোন বাড়িতে বিদ্যুতের এমন অপচয়/অপব্যবহার হয় তাহলে বিদ্যুতের ঘাটতি দেখা দেয়া স্বাভাবিক। দেশে এমনিতে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুতের উৎপাদন কম। যে কারণে এলাকা ভিত্তিক কখনো কখনো লোডশেডিং চলে। তার উপর যদি বিদ্যুতের যথেচ্ছ অপচয় হয় সেটা মোটেই শুভ নয়।
তাই আপনার কাছে সনির্বন্ধ অনুরোধ যতক্ষণ প্রয়োজন ততক্ষণ পর্যন্ত বিদ্যুৎ খরচ/ব্যবহার করুন।প্রয়োজন শেষে সুইচ বন্ধ করে দিন। আপনার পয়সাও বাঁচবে, লোডশেডিং ও কমে যাবে। এভাবে একটু একটু করে সবাই যদি দেশের চিন্তা করি, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখি তাহলে এদেশ একদিন উন্নত হবে ইনশাল্লাহ। ডিজিটাল বাংলাদেশে বিদ্যুৎ একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। বিদ্যুৎ ব্যাতিরেকে বিশ্ব অন্ধকার বৈকি।