স্টাফ রিপোর্টার: কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডা. জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবরের উপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে নাঙ্গলকোটে অপর এক সহকর্মী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সেবা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। গতকাল বুধবার নাঙ্গলকোট আল্ট্রা মডার্ণ হাসপাতালে এ সেবা বর্জনের ঘোষণা দেন নবজাতক, শিশু ও কিশোর রোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এম. শহিদ উল্যাহ এমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য)। হঠাৎ তার এমন সিদ্ধান্তে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। আজ বুধবার (১৫ জানুয়ারি) বিকেলে নাঙ্গলকোট আল্ট্রা মডার্ণ হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, শতাধিক চিকিৎসা প্রার্থী ওই চিকিৎসকের আশায় বসে থেকে বিনা চিকিৎসায় ফিরে যাচ্ছে।
এ ব্যাপারে ডা. এম শহিদ উল্যাহ বলেন, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডা. জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবরের উপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনার প্রতিবাদে আমি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আল্ট্রা মডার্ণ হাসপাতালে চিকিৎসা প্রার্থীদের লাকসামে এসে আমার কাছে অথবা অন্য কোন চিকিৎসকের কাছে রোগীদের চিকিৎসা করানোর পরামর্শ দিয়েছি। নাঙ্গলকোটের রোগীদের সাময়িক অসুবিধার জন্য আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করছি।
এ ব্যাপারে নাঙ্গলকোট আল্ট্রা মডার্ণ হাসপাতালের ম্যানেজার এস এম আজাদুজ্জামান আজাদ বলেন, ডাক্তার সাহেব চিকিৎসা না দেয়ায় আজকে আমাদের অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে। অন্তত শতাধিক রোগী চিকিৎসা সেবা নিতে পারেনি। আমরাও ডা. জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবরের উপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বিচার দাবি করছি।
উল্লেখ্য, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সহকারী অধ্যাপক চিকিৎসক জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর প্রতি শনিবার বিকেল ৪টা থেকে নাঙ্গলকোট জেনারেল হাসপাতালে রোগী দেখেন। গত শনিবার আসরের নামাজ পড়ে কলেজ মসজিদ থেকে বের হলে ওই চিকিৎসকের উপর সন্ত্রাসী হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় ওই চিকিৎসক বাদী হয়ে নাঙ্গলকোট পৌর সদরের হরিপুর গ্রামের হারুন রশিদের ছেলে আকাশ (১৯), নাঙ্গলকোট পাটোয়ারী জেনারেল হাসপাতালের মালিক সাইফুল ইসলাম পাটোয়ারী (৪০) সহ অজ্ঞাতনামা ১০-১২ জনের বিরুদ্ধে নাঙ্গলকোট থানায় মামলা দায়ের করেন।