মো. দুলাল মিয়া: কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে ভাড়াটিয়া সস্ত্রাসী দিয়ে জামাল হোসেন নামের এক অটোরিক্সা চালককে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বুধবার রাতে উপজেলার বক্সগঞ্জ ইউপির মাছিমপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহত অটোচালক ওই ইউপির বড়কালী গ্রামের মৃত. আলী আহাম্মদের ছেলে। এ ঘটনায় গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরে নোয়াখালী জেলায় অভিযান চালিয়ে তিন জনকে আটক করেছে থানা পুলিশ।
আটককৃতরা হলেন, ওই গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের স্ত্রী রোকেয়া বেগম, নোয়াখালী জেলার সেনবাগ উপজেলার গাজিরহাট ইউপির মোটবী গ্রামের মৃত. মকবুল আহাম্মদের ছেলে খোকন ও একই গ্রামের সিএনজি চালক ভূলু। ভূলুর বিরুদ্ধে নোয়াখালী ও কুমিল্লাসহ বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে পুকুরের জায়গা নিয়ে পাশের বাড়ীর দেলোয়ার হোসেনের সাথে বিরোধ চলে আসছে। এনিয়ে এলাকায় বেশ কয়েক বার শালিস দরবার হয়। দরবারের সিদ্ধান্ত হয় দেলোয়ার হোসেন বিদেশ থেকে বাড়ি আসলে এ জায়গার সমাধান করা হবে। এ নিয়ে রোকেয়া বেগম ও জামাল হোসেনের সাথে কথা কাটাকাটি হয়। জামাল হোসেন প্রায় সময় রোকেয়া বেগম ও তার ছেলে ইব্রাহিমকে গালমন্দ করে। এতে রোকেয়া বেগম ক্ষিপ্ত হয়ে জামাল হোসেনকে হুমকি ধমকি দিতে থাকে। এ সুযোগ গত বুধবার সন্ধ্যায় বক্সগঞ্জ বাজার থেকে ব্যাটারি চালিত অটোরিক্সায় যোগে দুইজন যাত্রী সেজে মাছিমপুর যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়। মাছিমপুর ব্রীজের নিকট পৌঁছিলে রোকেয়ার ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী দুই যাত্রী ও সিএনজি যোগে আসা আরও ৫-৬ জন সন্ত্রাসী জামালকে অটোরিক্সা থেকে নামিয়ে চাইনিচ কুড়াল, রামদাসহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। তার চিৎকারে লোকজন আসলে তারা পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা উদ্ধার করে নাঙ্গলকোট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়। সেখানে অবস্থার অবনতি ঘটলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন সেখানে মৃত্যুর সঙ্গে পানঞ্জা লড়ছেন বলে জানা যায়।
এ বিষয়ে নাঙ্গলকোট থানার ওসি মোঃ বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, অটোচালকের উপর হামলার ঘটনায় রাতেই সেনবাগসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৩ জনকে আটক করা হয়েছে। মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।