মাসুদুর রহমান: দেশের চলমান সংকটময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে কুমিল্লার লাকসামের ছাত্রনেতা রাসেল আহম্মেদ রাশেদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আবু তৈয়ব অপি। রাশেদ লাকসাম উপজেলার উত্তরদা ইউনিয়ন উত্তর শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি। সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে নিজ গ্রামবাসীর উপর হামলার অভিযোগ উঠে। এ বিষয়ে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় লাকসাম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত রাসেল আহম্মেদ রাশেদ রামারবাগ গ্রামের কানু মিয়ার ছেলে। গত ২৮ এপ্রিল সন্ধ্যায় স্থানীয় মসজিদে গণজমায়েতকে কেন্দ্র করে রামারবাগ গ্রামের ছেলামত উল্লাহর ছেলে মাহফুজুল হকের সাথে কানু মিয়ার ছেলে রাশেদ, আব্দুল করিমের ছেলে আজাদ হোসেন, মৃত খলিলুর রহমানের ছেলে জসিম উদ্দিন, মৃত আবুল হাশেমের ছেলে আবুল হোসেন, আবুল খায়েরের ছেলে সোহাগ হোসেন, হাসানুজ্জামানের ছেলে রফিকুল ইসলাম, সামছুল আলমের ছেলে সালমান হোসেন, মৃত মমতাজ মিয়ার ছেলে শরীফ উদ্দিন ও দেলোয়ার হোসেনের বাকবিতন্ডা হয়।
এক পর্যায়ে তারা গ্রামের আরো ২০/২৫ জন যুবককে নিয়ে মাহফুজুল হককে মারধর করে। মাহফুজের পিতা ছেলামত উল্লাহ, মাতা দুধ নাহার বেগম, চাচা হেদায়েত উল্লাহ, ভাই মজিবুর রহমান, ভাতিজা সাব্বির হোসেন, ভাতিজি স্বপ্না, প্রতিবেশী বিল্লাল হোসেন, জাফর আহম্মেদ, আলী আহম্মেদ ও সাবেক ইউপি সদস্য রুহুল আমিন ঘটনাস্থলে গেলে তাদেরকেও মারধর করে রাশেদ ও তার অনুসারীরা। তাদেরকে অস্ত্রের আঘাতে আহত করা হয়। এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় লাকসাম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী মজিবুর রহমান।
তিনি জানান, ছাত্র রাজনীতির অন্তরালে রাশেদ ও তার অনুসারীরা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের থেকে চাঁদা আদায়, সরকারি গাছ কর্তনসহ বিভিন্ন ধরণের অপকর্ম চালিয়ে আসছে।
এ ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আবু তৈয়ব অপি বলেন, লাকসামের ছাত্রলীগ নেতা রাসেল আহম্মেদ রাশেদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হলে দেশের সংকটময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত রাসেল আহম্মেদ রাশেদ বলেন, থানায় অভিযোগের বিষয়টি জেনে তিনি উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যানকে অবগত করেছেন। তবে ঘটনার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে এ বিষয়ে তিনি কোনো বক্তব্য দেননি।