ফারুক আল শারাহ:
ধর্মান্তরিত কুমিল্লার মনোহরগঞ্জের নও-মুসলিম পরিবারটি কেমন আছে? তথ্য অনুসন্ধানে পরিবারটির বিস্তারিত খোঁজ খবর পাওয়া যায়। নও-মুসলিম পরিবারের সদস্যরা এ বছর প্রথমবারের মতো রোজা রাখছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিক ও মানবাধিকার নেতা জি.এম আহসান উল্লাহ সোহাগ।
জানা যায়, ভিটেবাড়ি ও পরিবারের তেমন আয় রোজগার না থাকায় তাদেরকে কষ্টে দিনাতিপাত করতে হচ্ছে। স্থানীয়দের আন্তরিকতায় থাকছেন অন্যের জায়গায়। এলাকাবাসীর সহযোগিতায় কিছুটা হলেও সাংসারিক ব্যয় নির্বাহ হচ্ছে।
জানা যায়, প্রায় ৪ বছর পূর্বে গাজীপুর আবদুস সালাম মসজিদের খতিব মাওলানা আবদুল মালেকের হাত ধরে পরিবারের পাঁচ সদস্য ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। কিন্তু তাদের পূর্বের সনাতন ধর্মের লোকজনের বাঁধার কারনে এলাকায় আসতে পারেননি। অনেক আগে ধর্মান্তরিত হলেও গেল বছরের মাঝামাঝিতে স্ত্রী, শাশুড়ি ও দুই পুত্র সন্তানসহ স্বপরিবারে দেশে আসেন উপজেলার মৈশাতুয়া ইউনিয়নের হাটিরপাড় গ্রামের বাসিন্দা প্রদীপ কুমার সাহা ও তার পরিবার।

পবিত্র রমজান মাসে নও-মুসলিম পরিবারটির পাশে উপহার সামগ্রী নিয়ে দাঁড়ান সাংবাদিক ও মানবাধিকার নেতা জি.এম আহসান উল্লাহ সোহাগ
ধর্মান্তরিত হওয়ার পর প্রদীপ কুমার সাহার নাম পরিবর্তন করে নুর মোহাম্মদ, বড় ছেলে ইমন সাহার মোঃ ইসমাইল হাসান, ছোট ছেলে সৈকত সাহার মোঃ শাহাদাত হোসেন, স্ত্রী স্বরস্বতীর খাদিজাতুল কোবরা এবং শাশুড়ি সুমি রানীর ফাতেমা-তুজ-জোহরা রাখা হয়েছে।
স্থানীয় মুসলমানদের আন্তরিকতায় নিরাপদে ধর্মীয় কর্মকাণ্ড পালন করছেন পরিবারের সকলে। এমনকি এ বছর মাহে রমজানের রোজাও রাখছেন পরিবারের লোকজন।
নও-মুসলিম নুর মোহাম্মদ জানান, আল্লাহর রাব্বুল আলামিনের সন্তুষ্টির জন্য পরিবারের সকলকে নিয়ে এ বছর প্রথম রোজা রাখছি। রোজা রাখতে আমাদের কোন অসুবিধা হচ্ছে না। মুসলিম সমাজের সকলেই আমার পাশে আছেন এবং ভবিষ্যতেও তারা পাশে থাকবে বলে আমি বিশ্বাস করি। এসময় তিনি তার পরিবারের জন্যে সকলের কাছে দোয়া চান।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নও-মুসলিম নুর মোহাম্মদের পরিবারের উপার্জনের একমাত্র ব্যক্তি তিনি। দুই ছেলের মধ্যে একজন হাফেজিয়া মাদ্রাসায় এবং অপরজন স্কুলে পড়াশোনা করে। তিনি স্থানীয় বাজারে রোজ হাজিরায় হোটেলে চাকুরি করতেন। কিন্তু মহামারি করোনার প্রভাবে লকডাউনে হোটেল বন্ধ থাকায় পরিবারের ভরণপোষণ যোগাতে হিমশিম খাচ্ছেন নুর মোহাম্মদ। এছাড়াও এলাকার সকলের সহযোগিতায় মাথা গোজাবার ঠাঁই হয়েছে অন্যের জায়গায়। স্থানীয়ভাবে সকলে চেষ্টা করে যাচ্ছেন এক টুকরো জমিন কিনে দেওয়ার জন্যে। কিন্তু ভূমির চড়া মূল্যের কারণে প্রয়োজনীয় অর্থের অভাবে তা সম্ভব হচ্ছে না।
স্থাণীয় সাংবাদিক ও মানবাধিকার নেতা জি.এম আহসান উল্লাহ সোহাগ জানান, পরিবারটি বর্তমানে অর্থকষ্টে দিনাতিপাত করছেন। নিজস্ব বাড়িঘর নেই। পরিবারের তেমন উপার্জনও নেই। দুই ছেলের একজনকে মাদ্রাসায় ও একজনকে স্কুলে পড়ালেও সন্তানদের ইসলামী নৈতিক আদর্শে মানুষ করছেন নুর মোহাম্মদ ও তার পরিবার। মানবিকতা নিয়ে সমস্যাগ্রস্ত পরিবারটির পাশে দেশ-প্রবাসের সম্পদশালীদের এগিয়ে আসা উচিত বলে তিনি জানান।
স্থানীয় সমাজ প্রতিনিধি যুবলীগ নেতা কামাল হোসেন বলেন, আমরা সামাজিকভাবে এই নওমুসলিম পরিবারকে যতটুকু সম্ভব সহযোগিতা করে আসছি। পূর্বের সনাতন ধর্মের পরিবার পরিজন তাদের সকল সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করায় তাদের ভিটেবাড়িও নেই। দেশ-বিদেশের বিত্তশালীরা যদি সামান্য কিছু অর্থ দিয়ে তাদের সহযোগিতায় এগিয়ে আসে তাহলে তাদের স্থায়ীভাবে বসবাসের একটা ব্যবস্থা করে দিতে পারতাম।