ফারুক আল শারাহ:
কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে নতুন আরো ৮ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে উপজেলার বাতাবাড়িয়া গ্রামের একই পরিবারের ২০ মাস বয়সী শিশুসহ চারজন রয়েছেন। এছাড়া, কাশিপুর গ্রামের একই পরিবারের তিনজন ও খাটাচৌঁ গ্রামের একজন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে উপজেলায় সর্বমোট আক্রান্ত ২২ জন। স্থানীয় স্বাস্থ্যবিভাগ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
জানা যায়, নাঙ্গলকোটে আজ বৃহস্পতিবার (২১ মে) নতুন ৮ জন সহ এ পর্যন্ত ২২ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে উপজেলার দৌলখাঁড় ইউপির বাতাবাড়িয়া গ্রামের জনৈক পল্লী চিকিৎসক (৪০), তার স্ত্রী (২৫), বড় মেয়ে (৭) ও ২০ মাস বয়সী ছোট মেয়ে করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। অপর আক্রান্তদের মধ্যে বটতলি ইউনিয়নের কাশিপুর গ্রামের জনৈক নারী (৫০), তার বড় মেয়ে (১৭) ও ছোট মেয়ে (৮) করোনায় আক্রান্ত হয়। এছাড়া মৌকরা ইউপির খাঁটাচৌ গ্রামে জনৈক যুবক (২৪) এর রিপোর্টও পজেটিভ আসে।
সোমবার (১৮ মে) উপজেলা স্বাস্থ্যবিভাগের করোনা র্যাপিড রেসপন্স টিমের সদস্যরা তাদের নমুনা সংগ্রহ করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পিসিআর ল্যাবে প্রেরণ করে। বৃহস্পতিবার তাদের রিপোর্ট পজেটিভ আসে।
নাঙ্গলকোট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, করোনা আক্রান্তদের বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে।
নাঙ্গলকোটে এ পর্যন্ত ৩শ’ জনের নমুনা সংগ্রহ করেছে করা হয়। তাদের মধ্যে ২শ’ ৭০ জনের রিপোর্ট আসে। এ নিয়ে পুরো উপজেলায় ২২ জন করোনা শনাক্ত হয়।
স্বাস্থ্যবিভাগ সূত্রে জানা যায়, ১১ মে উপজেলার রায়কোট দক্ষিণ ইউনিয়নের পূর্ববামপাড়া গ্রামের শাশুড়ি-পুত্রবধূ, ১৩ মে দৌলখাঁড় ইউনিয়নের কান্দাল গ্রামের দুই ভাই-বোন, ১৬ মে উপজেলার বক্সগঞ্জ ইউনিয়নের মদনপুর গ্রামের দুই সহোদর ও জোড্ডা পূর্ব ইউনিয়নের পানকরা গ্রামের এক যুবক, ১৮ মে পৌরসভার একজন, ঢালুয়া ইউনিয়নের মকিমপুর গ্রামের এক পল্লী চিকিৎসক, ওই ইউনিয়নের চিওড়া গ্রামের একজন ও সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের সাতবাড়িয়া গ্রামের একজনের করোনা শনাক্ত হয়। ২০ মে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্যানিটারী ইন্সপেক্টর, মানরা কমিউনিটি ক্লিনিকের কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার ও আদ্রা গ্রামের জনৈক ব্যক্তি করোনায় আক্রান্ত হন।
এছাড়া গত ১৮ মে উপজেলার বটতলি ইউনিয়নের কাশিপুর গ্রামের স্বামী ও স্ত্রীর করোনা শনাক্ত হয়। তারা লাকসাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে নমুনা পরীক্ষা করায় তাদেরকে নাঙ্গলকোটের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। বর্তমানে তাদেরকে লাকসাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের করোনা ওয়ার্ডে আইসলোশানে রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
নাঙ্গলকোট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লামইয়া সাইফুল নাঙ্গলকোটে নতুন তিনজন সহ সর্বমোট ২২ জন আক্রান্ত এবং লাকসামে উপজেলার আরো দুইজন আক্রান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, করোনাভাইরাস থেকে রক্ষা পেতে সতর্কতার বিকল্প নেই। সকলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে বাসা-বাড়িতে অবস্থান করুন। আপনাদের যে কোন প্রয়োজনে উপজেলা প্রশাসন পাশে আছে।