ফারুক আল শারাহ:
কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স টানা ১২ দিন লকডাউন থাকার পর আজ বৃহস্পতিবার (৪ জুন) থেকে পুনরায় চিকিৎসা সেবা চালু হয়েছে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সাতজন চিকিৎসকসহ ১০ জনের করোনা রিপোর্ট পজিটিভ আসায় ওই হাসপাতাল লকডাউন ঘোষণা করা হয়। ১২ দিন হাসপাতালটি বন্ধ থাকায় উপজেলাবাসীকে চরম দূর্ভোগে পড়তে হয়েছে।
জানা যায়, নাঙ্গলকোট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জনবল সঙ্কট, রোগ নির্ণয়ের বিভিন্ন মেশিন ও রোগী পরিবহন সমস্যার কারণে স্বাস্থ্যসেবা বিঘিœত হচ্ছে। চলমান করোনা পরিস্থিতিতে গত ২০ মে উপজেলার বেশ কয়েকজন চিকিৎসক, কর্মকর্তা, কর্মচারির নমুনা সংগ্রহ করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পিসিআর ল্যাবে পাঠানো হলে ২৩ মে উপজেলা স্বাস্থ্যবিভাগের সাতজন ডাক্তারসহ হাসপাতালের ১০ জন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা-কর্মচারির করোনা পজিটিভ শনাক্ত হওয়ার পরপরই হাসপাতালটি লকডাউন করা হয়। এরই মধ্যে আরও কয়েকজন স্বাস্থ্যকর্মীর করোনা রিপোর্ট পজিটিভ আসায় উপজেলার ৫টি প্রাইভেট হাসপাতাল এবং ৪টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও ৫টি কমিউনিটি ক্লিনিক লকডাউন ঘোষণা করা হয়। এতে চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হয় উপজেলার ৬ লাখ মানুষ।
বিষয়টি নিশ্চিত হতে গত ২৪ মে নাঙ্গলকোট উপজেলা স্বাস্থ্যবিভাগের চিকিৎসকসহ ৫০জন স্বাস্থ্যকর্মীর নমুনা ঢাকা মহাখালীর আইইডিসিআর-এ প্রেরণ করা হয়। তাদের মধ্যে ৪৪ জনের করোনা রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। অন্য ৬ জনের করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আসে। তাদের মধ্যে গত ২৩ মে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পিসিআর ল্যাব হতে প্রাপ্ত উপজেলা স্বাস্থ্যবিভাগের সাতজন চিকিৎসক, একজন সিনিয়র স্টাফ নার্স, একজন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও একজন স্যাকমোর করোনা পজিটিভ পুনঃপরীক্ষার ফলাফল নেগেটিভ আসে। এ রিপোর্ট আসার পর আজ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহিঃবিভাগ, জরুরি বিভাগ ও আন্তঃবিভাগের স্বাস্থ্যবিভাগের সকল স্বাস্থ্য সেবা কার্যক্রম চালু করা হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. দেব দাস দেব আজ স্থানীয় গনমাধ্যমকর্মীদের সাথে করোনা পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময়কালে হাসপাতালে প্রচুর জনবল সঙ্কটের কথা জানান। টেকনোলজিস্টের কারণে এক্স-রে মেশিন ও ইসিজি মেশিন চালু করা সম্ভব হচ্ছে না এবং প্রয়োজনীয় ড্রাইভার না থাকায় সরকারি এ্যাম্বুলেন্সও চালু করা যাচ্ছে না বলে তিনি জানান।