ফারুক আল শারাহ: সরকারি হচ্ছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে প্রতিষ্ঠিত ২৮টি প্রতিষ্ঠান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ ২৮টি প্রতিষ্ঠান সরকারিকরণের বিষয়ে অনুমোদন দিয়েছেন। তালিকায় কুমিল্লা জেলার একমাত্র প্রতিষ্ঠান হচ্ছে নাঙ্গলকোটের রামেরবাগ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টেকনিক্যাল এন্ড কমার্স কলেজ। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এ বিষয়টি জানিয়ে চিঠি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ এবং কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগে পাঠানো হয়েছে।
জানা যায়, ১৯৯৯ সালে কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব জয়নাল আবেদীন ভুঁইয়া রামেরবাগ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টেকনিক্যাল এন্ড কমার্স কলেজটি প্রতিষ্ঠা করেন। কারিগরি শিক্ষা বোর্ড থেকে অনুমোদন, কলেজ মাঠ ভরাট, কলেজের ভবন নির্মাণ, বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্ট থেকে অনুমোদন, কলেজ এবং ভোকেশনাল শাখার এমপিওভুক্তিতে সাবেক জনপ্রিয় এ সংসদ সদস্যের ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয়।
প্রতিষ্ঠার পর থেকে নাঙ্গলকোটের রামেরবাগ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টেকনিক্যাল এন্ড কমার্স কলেজ প্রত্যন্ত অঞ্চলে অত্যন্ত সুনামের সাথে কারিগরি শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে। কলেজটিতে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি (ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা) শাখায় কম্পিউটার অপারেশন, সেক্রেটারিয়েল সায়েন্স ও উদোক্তা উন্নয়ন ট্রেড চালু রয়েছে। এসএসসি (ভোকেশনাল) শাখায় কম্পিউটার ও তথ্য প্রযুক্তি, ইলেকট্রিক্যাল ওয়ার্কস ও ড্রেস মেকিং ট্রেড চালু রয়েছে। কলেজটি এইচএসসি শাখায় একবার এবং এসএসসি শাখায় একবার কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ফলাফলে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে। এছাড়া প্রতিবছরই প্রতিষ্ঠান থেকে শতভাগ পাসের সাফল্য ধরে রেখেছে।
রামেরবাগ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টেকনিক্যাল এন্ড কমার্স কলেজে বর্তমানে সাড়ে তিন শত শিক্ষার্থী ও ২১জন শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন। কলেজটি সরকারিকরণের সংবাদে এলাকার রাজনৈতিক, সমাজিক নেতৃবৃন্দ, অভিভাবক, ছাত্র-ছাত্রীসহ সকলেই উৎফুল্ল।
কলেজ অধ্যক্ষ নুরুর রহমান বলেন, কলেজটি সরকারিকরণের অনুমোদন দেয়ায় বঙ্গবন্ধু কন্যা, দেশরতœ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। পাশাপাশি আমাদের অভিভাবক, কুমিল্লার কৃতি সন্তান মাননীয় অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল (লোটাস কামাল) এমপি’র প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
কলেজটি প্রতিষ্ঠায় নাঙ্গলকোটের সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়ার অবদানের কথা তুলে ধরে অধ্যক্ষ বলেন, আজ তিনি বেঁচে থাকলে কলেজ সরকারিকরণের কথা শুনে অনেক খুশি হতেন। আমি তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।