ডেস্ক রিপোর্ট: স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেছেন, চট্টগ্রামের উন্নয়নের দিকে প্রধানমন্ত্রীর নজর রয়েছে। তাই এই চট্টগ্রামকে আধুনিক নগরীতে রূপান্তরের লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ২০০৮ সালে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার সময় বাংলাদেশকে একটি উন্নত দেশে পরিণত করার যে অঙ্গীকার করেছিলেন সরকার ধাপে ধাপে সেদিকেই এগিয়ে যাচ্ছি।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা ইতোমধ্যেই জাতিসংঘ ঘোষিত মিলিনিয়াম ডেভলপমেন্ট গোল (এমডিজি) অর্জন করতে পেরেছি যা দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের জন্য আজ উন্নয়নের মডেল।
শনিবার চট্টগ্রামের রেডিসন ব্লু হোটেলে চট্টগ্রাম ওয়াসার একটি প্রকল্পের চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতাকালে এসব কথা বলেন।
চট্টগ্রাম ওয়াসার প্রকল্প ‘চট্টগ্রাম মহানগরীর পয়ঃনিস্কাশন ব্যবস্থা স্থাপন প্রকল্প (১ম পর্যায়) এর পরামশর্ক নিয়োগের চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম, চট্টগ্রাম সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী এ কে এম ফয়জুল্লাহ, স্থানীয় সরকার ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. জহিরুল ইসলাম ও মুহাম্মদ ইব্রাহিম, মালেশিয়ার পরামর্শক প্রতিষ্ঠান জেবি এরিঙ্কোর চেয়ারম্যান তানশ্রী আহমেদ জায়েদী বিন লাদেন।
তাজুল ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে গ্রামে-গঞ্জে শতভাগ সুপেয় পানি সরবরাহ পৌঁছানোর জন্য আমরা কাজ করছি। সুপেয় পানির উৎস নদীসমূহের দূষণ রোধে প্লাস্টিকসহ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ওয়েস্টসমূহ নিয়ন্ত্রণ কল্পে ওয়েস্ট নিয়ে সরকার ভাবছে। পর্যায়ক্রমে বুড়িগঙ্গার পর আমরা চট্টগ্রামেও হাত দিতে যাচ্ছি। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বর্তমান সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এসডিজি অর্থাৎ একটি মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করার লক্ষ্যে আমাদের সবাইকে সত্যিকারভাবে কাজ করতে হবে।
মন্ত্রীর উপস্থিতিতে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। পরামর্শক প্রতিষ্ঠানসমূহ হচ্ছে, মালয়েশিয়া ভিত্তিক জেবি অফ এরিঙ্কো এবং বাংলাদেশের বিইটিএস কনসাল্টিং সার্ভিস লিমিটেড, ডেভ কনসালট্যান্ট লিমিটেড, ইনস্টিটিউট অফ ওয়াটার মডেলিং (আইডব্লিউএম)।
উল্লেখ্য, এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে তিন হাজার ৮০৮ কোটি ৫৮ লাখ ৭৭ হাজার টাকা। এর মধ্যে সরকার অনুদান হিসেবে তিন হাজার ৭৫৮ কোটি টাকা, চট্টগ্রাম ওয়াসা দেবে ৫০ কোটি টাকা। পুরো নগরকে ৬টি জোনে ভাগ করে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। প্রথম ধাপে ১১টি ওয়ার্ডের ২০ লাখ নগরবাসীকে পয়ঃ বর্জ্য স্যুয়ারেজ ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে। ২০২৩ সালে এ প্রকল্প শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
পিডিএসও/রি.মা