শিরোনাম
  লাকসাম পৌর নির্বাচনে মেয়র পদে সম্ভাব্য প্রার্থী নবাব ফয়জুন্নেছার পরিবারের সদস্য আয়াজ       কেমন বাংলাদেশ চাই?       লাকসাম টু আমেরিকা গ্রুপে শিশুদের ছবি প্রতিযোগিতার পুরষ্কার বিতরণ       লাকসাম পৌর নির্বাচনে মেয়র পদে বিএনপি’র সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশা আবুল হাসেম মানু: শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত মাঠে থাকার দৃঢ় প্রত্যয়       লাকসামের কামড্যা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি মোশারফ কাঞ্চন       নেতৃবৃন্দের রোগমুক্তি কামনায় লাকসামে যুবদলের মিলাদ ও দোয়া       দায়িত্ব গ্রহণের বর্ষপূর্তিতে শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় সিক্ত হলেন নাঙ্গলকোটের ইউএনও লামইয়া সাইফুল       কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা যুবদল সভাপতি ওয়াসিমের সু-স্বাস্থ্য কামনায় লাকসামে মিলাদ ও দোয়া       সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রদল নেতা সফিকুর রহমানের নির্দেশনায় লাকসাম-মনোহরগঞ্জে বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত       লাকসামে উৎসবমুখর পরিবেশে বিএনপি’র ৪২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত    


 

এম এস দোহা:

আমার মায়ের বয়স আশি’র কোঠায়। বিশ বছর পূর্বেই গুরুতর অসুস্থ হয়ে মৃত্যু পথযাত্রী ছিলেন তিনি। বয়সের সাথে সাথে রোগেরও বিস্তৃতি। চিকিৎসা ও পরিচর্যার মাধ্যমেও আল্লাহ অনেককে নতুনভাবে বাঁচার তৌফিক দিয়ে থাকেন। আমার মা তার দৃষ্টান্ত। চিকিৎসা সেবা গ্রহণের সাথে এরই ফাঁকে তিনবার পবিত্র হজ্জ পালনে তৌফিক তার। তিন দফা ব্রেন স্ট্রোক। দীর্ঘদিন বিছানায় শয্যাশায়ী ছিলেন। মাসাআল্লাহ আল্লাহর রহমত ও চিকিৎসা বদৌলতে এখন মোটামুটি সুস্থ। তিন মাস পর ডাক্তার দেখাতে হয়। কোন কারণে বিলম্ব হলেই অস্থির। গত মাসে রুটিন মাফিক ডাক্তার দেখানোর কথা। কিন্তু কোভিড-১৯ কারণে চেম্বারে ডাক্তার অনুপস্থিত। টেলিফোনে ডাক্তারের সাথে কথাবার্তা ও পরামর্শ হয়। মা’কে বললাম, করোনার জন্য ডাক্তার চেম্বারে বসে না। বিষয়টি তিনি সহজভাবে গ্রহণ করতে পারছেন না। ফলে মনস্তাত্বিক ও মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন। দেখা দিয়েছে অনিদ্রা, বিরক্তি, বিমলতা, উদ্বিগ্ন অবস্থা, নেতিবাচক চিন্তা ও আতঙ্ক। কবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে? নাকি চিকিৎসা অভাবে বড় ধরনের সমস্যা হয়! এসবই যপেন তিনি।

মায়ের পাশাপাশি নিজের স্বাস্থ্য সেবা নিয়েও ব্যক্তিভাবে কিছুটা টেনশনে। এক বছর পূর্বে উরুর ডানদিকে হার্নিয়া অপারেশন হয়। ডাক্তার বলেছিল ‘লাক ফেভার’ করলে বামদিকে নতুন করে হার্নিয়া দেখা নাও দিতে পারে। কিন্তু না। ৬ মাস পূর্বে উপসর্গ দেখা দেয়। হাঁটা চলাফেরা করলে ব্যথা বাড়ে। ফেব্রুয়ারীতে বইমেলায় হাটাহাটি করায় অসহ্য ব্যথা অনুভব হয়। যখন অপারেশনের চিন্তাভাবনা চুড়ান্ত করলাম, করোনা দাঁড়ায় বাঁধা হয়ে। কারণ হাসপাতাল গুলোতে সব ধরনের রোগীদের চিকিৎসা সেবা এরকম বন্ধ বলা চলে। শুধু তাই নয়, নির্ধারিত হাসপাতালে কোভিড-১৯ চিকিৎসাসেবাও অপ্রতুল। প্রাইভেট হাসপাতাল গুলো বসে আছে হাত গুটিয়ে। সরকারী হাসপাতালে রোগী আতঙ্ক। সাধারণ ও বিশেষায়িত হাসপাতালেও চিকিৎসা পাচ্ছেন না অন্য রোগে আক্রান্তরা। স্বজনরা রোগী নিয়ে এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে ঘুরে ঘুরে হয়রান। কোনো হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চায় রোগীর কোভিড-১৯ নেই মর্মে প্রত্যয়নপত্র। এসব শর্ত ও আমলাতান্ত্রিক মারপ্যাচে পথেই রোগী চলে যাচ্ছেন না ফেরার দেশে। চিকিৎসক সন্তানও নির্বাক হয়ে দেখছেন বাবা-মা অথবা স্বজনদের করুন মৃত্যু। এজন্য স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা ও ডাক্তারদেরকে ঢালাওভাবে দায়ী করা হয়। কিন্তু স্বাস্থ্য খাতের নীতি নির্ধারনীতে ডাক্তাররা বরাবর-ই উপেক্ষিত। আমলাতন্ত্রের বেড়াজালে দেশের প্রথম সারীর এই মেধাবীরা বড্ড অসহায়। চলমান এই বিপর্যয়ে স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার জন্য আমলাতন্ত্রকে দায়ী করা হচ্ছে। ভাগ্যের নির্মম পরিহাস করোনাকালীন সময়ে ডাক সাইডে এই আমলারাই এখন ভূক্তভোগী।

‘অসুস্থ হবার টাইম এটা না’’সদ্য প্রয়াত সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব জাদরেল আমলা সা’দত হুসাইনের পুত্র সাহজেব সা’দতের ফেসবুক স্ট্যাটাসের প্রথম লাইন এটি। স্ট্যাটাসটিতে তিনি একই সঙ্গে বাবা ও মা উভয়ের অসুস্থ হওয়ার পর বিভিন্ন হাসপাতালে নিজের অভিজ্ঞতার বিবরণ দিয়ে অন্যদের সতর্ক করেছেন। উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে তার মাও মারা যায়। তিনি লিখেন- ‘তদবির না করলে আইইডিসিআর থেকে সহজে নমুনা সংগ্রহ করতে কেউ আসে না। নমুনা পরীক্ষার ফল না আসা পর্যন্ত সব হাসপাতালের ডাক্তাররা রোগীকে করোনা রোগী মনে করেন। ফলে মূল রোগের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসা বিলম্বিত হয়। কোভিড-১৯ ছাড়া অন্য কোনো কারণে রোগীর শ্বাসকষ্ট হলে বেসরকারি হাসপাতালগুলো তাঁকে ভর্তি করাতে গড়িমসি করে। তাঁর মায়ের ক্ষেত্রে এটা ঘটেছিল। এ ছাড়া পিপিই ও অন্যান্য অযাচিত খরচের ধাক্কা, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অনুপস্থিতি ও অন্যান্য বিষয় উল্লেখ করে তিনি সবাইকে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে, হাসপাতাল ও চিকিৎসকদের কাছ থেকে এ সময় শত হস্ত দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।’

সরকারের অতিরিক্ত সচিব গৌতম আইচের কিডনির সমস্যা ছিল। ল্যাবএইডে ডায়ালাইসিসের সময় সমস্যা দেখা দিলে তারা রোগীকে আইসিইউ সাপোর্ট দিতে পারবে না জানিয়ে ভর্তি করতে অস্বীকৃতি জানায়। তার মেয়ে সুস্মিতা বাবাকে নিয়ে নানা সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে ঘুরে ভর্তি করাতে ব্যর্থ। অবশেষে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করান। এক পর্যায়ে রোগীর অক্সিজেনের ঘাটতি দেখা দেয়। তার বেডের কাছে কোনো ডাক্তার যাননি। তারা সুস্মিতাকে ওষুধ বুঝিয়ে দেন। মেয়ে বাবাকে ওষুধ খাওয়ান। সুস্মিতার ভাই অক্সিজেন দেন। সুস্মিতার অভিযোগ, বারবার বলা সত্ত্বেও তার বাবাকে করা হয়নি কোভিড-১৯ পরীক্ষা । মারা যাওয়ার পরও তা সম্ভব হয় নি। তিনি পাননি আইসিইউ সাপোর্টও।

বিশ্বব্যাংকের কর্মকর্তা জিয়া হায়দারের অভিযোগ, তাঁর মা অসুস্থ হলে কোভিড টেস্ট সার্টিফিকেট না থাকায় হাসপাতালগুলো চিকিৎসা দেয়নি। একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভেন্টিলেটরে চিকিৎসাধীন থাকাকালে কোভিড টেস্ট পজিটিভ হওয়ায় তাঁকে কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সেখানেও চিকিৎসা না পেয়ে অবশেষে তিনি মারা যান। কোভিড-১৯ টেস্ট পরীক্ষায় তাঁর মায়ের প্রথমে নেগেটিভ, পরে পজিটিভ ও আবার নেগেটিভ রিপোর্ট পাওয়া যায়। জিয়া হায়দার প্রধানমন্ত্রীর কাছে হাসপাতালটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য চিঠি ও হাসপাতালকে উকিল নোটিশ পাঠিয়েছেন।

ঢাক দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থপনা বিষয়ক উপদেষ্টা খন্দকার মিন্নাতুল ইসলাম করোনা টেষ্টের জন্য আইইডিসিআরে অনেক চেষ্টা করেও সফল হননি। প্রাতিষ্ঠানিকভাবেও তদবীর করে ডিএসসিসি। তার ছেলে মাজাহারুল ইসলাম শান্ত চিকিৎসক হয়েও পিতাকে নুন্যতম স্বাস্থ্যসেবা দিতে অসহায়। বিষয়টি সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে লিখিত আকারে অভিযোগ জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এমাদুল ইসলাম।

সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক মো. মঈন উদ্দিন কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়ে নিজের হাসপাতালেই চিকিৎসা পাননি বলে অভিযোগ আছে। তাঁকে ঢাকায় আনার পরও তিনি যথাসময়ে চিকিৎসাসেবা না পেয়ে মারা গেছেন। মেডিকেল কলেজের প্রিন্সিপাল ফরেনসিক মেডিসিনের প্রফেসর আনিসুর রহমানও আইসিইউ পাননি। আবার এন৯৫ মাস্কের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন তোলায় ডাক্তারদের বদলী, হয়রানী, ওএসডি ও শোকজ এখনও অব্যহত।

আমলাতন্ত্রের প্যাঁচ কাকে বলে করোনা মোকাবেলায় ইতিমধ্যে আমরা হাড়ে হাড়ে টের পেয়ে গেছি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছুটি, লকডাউন, অফিস-আদালত বন্ধ, পরিবহন চলাচল, হাসপাতাল নির্ধারণ, চিকিৎসকদের সুরক্ষা সামগ্রী সরবরাহ, এন৯৫ মাস্ক, পিপিই, জাতীয় টেকনিক্যাল কমিটি গঠন, প্রাইভেট হাসপাতাল জটিলতা, পরীক্ষা ল্যাব স্থাপনে ধীরগতি, করোনা চিকিৎসা সামগ্রীর ভ্যাট ট্যাক্স মওকুফ, চিকিৎসকদের জন্য প্রণোদনার অসম্মানজনক শর্ত, করোনার চিকিৎসা বিষয়ক প্রশিক্ষণসহ অসংখ্য সমস্যা আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় খেয়েছে ঘুরপাক। যা সমাধানে শেষপর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হস্তক্ষেপ করতে হয়। আমলাতন্ত্রের বেড়াজালে আটকে আছে মাস্ক ও পিপিই ব্যবহারের নিয়মকানুন হাতে কলমে শেখানোর প্রশিক্ষন কর্মসূচী। ৩৮ পিসিআর ল্যাবের মধ্যে ১৪টিতে পরীক্ষা এখনও ঝুলন্ত।

ডাক্তার, নার্স, টেকনিশিয়ানদের মৃত্যু ও আক্রান্ত বৃদ্ধি চিকিৎসা সেক্টরের জন্য উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার বিষয়। স্বাস্থ্য খাতের এধরনের নেতিবাচক ব্যবস্থাপনা উদ্বেগজক হারে মৃত্যুর মিছিলে মধ্যেই ঈদুল ফিতর উৎসব।

শপিং ও আমাদের বাড়ী যাওয়ার জন্য উপচেপড়া ভীড় দেখে বুঝা যায় বাঙ্গালি কতটা সাহাসী। যা দেখে কোভিড-১৯ ভাইরাস-ই এখন গতি প্রকৃতি হারিয়ে পাগল হওয়ার পথে। প্রচলিত উপসর্গ না থাকলেও বীর বাঙ্গালির করোনা রিপোর্ট পজেটিভ। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থাকে এই নতুন উপসর্গের কারণ খুঁজতে হচ্ছে। ঈদ পরবর্তী সময়ে হয়তো বড় ধরনের খেসারতের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে আমাদের।

করোনা মোকাবেলায় স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উল্লেখিত আমলাতান্ত্রানিক জটিলতার প্রেক্ষাপটে সাংবাদিক নঈম নিজামের লেখা নিবন্ধের একটি গল্পের সাদৃশ্য লক্ষণীয়। যা এখানে জুড়ে দেওয়ার লোভ সামলাতে পারলাম না।

‘রাজধানী ঢাকায় বৈশাখের বিকালে এক লোক বের হলেন জরুরি কাজে। হঠাৎ ঝড় শুরু হলো। লোকটি গিয়ে আশ্রয় নিল একটি গাছের নীচে। কিন্তু দুর্ভাগ্য! ঝড়ে গাছটির বড় ডাল ভেঙে পড়ল লোকটির ওপর। এর মধ্যে ঝড় থামল। একজন মানুষকে জীবন-মৃত্যুর মাঝখানে দেখে পথচারীরা খবর দিল ফায়ার সার্ভিসে। দ্রুত ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি এলো। তারা দেখল ঝড়ে গাছের সঙ্গে ইলেকট্রিসিটি খাম্বাও পড়ে গেছে। আগে খাম্বা সরাতে হবে। তারপর গাছের ডাল। হঠাৎ সিদ্ধান্ত পরিবর্তন। সিটি করপোরেশন ও বিদ্যুৎ বিভাগকে না জানিয়ে তারা কীভাবে কাজটা শুরু করবে। একটা প্রটোকলেরও ব্যাপার আছে। ডিপার্টমেন্টাল ঝামেলা তো আছেই। গাছের মালিক সিটি করপোরেশন। আর খাম্বার মালিক ডেসা। তাদের আগে জানাতে হবে। তারপর উদ্ধার অভিযান।

ফায়ার সার্ভিস প্রটোকল মেনে জানাল সিটি করপোরেশনকে। এলেন সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা। তারা বললেন, কারও একলা সিদ্ধান্তে হবে না। বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজনকেও আসতে হবে। তারাও এলেন। এবার সবাই বললেন, ওয়াসাকে ডাকলে ভালো হয়। কারণ ম্যানহোলের ঢাকনা দৃশ্যমান। এহেন মহড়া দেখে গাছের নিচে থাকা মানুষটি কাতর কণ্ঠে বললেন, ভাই! যারে খুশি ডাকা দরকার পরে ডাকুন। তার আগে আমাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান। আমি পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষ। আমাকে বাঁচান ভাইয়েরা। দুজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এগিয়ে গেলেন। মিডিয়া সবকিছু লাইভ করছে। কর্মকর্তারা বললেন, তোমার উদ্ধারের জন্যই আমরা এতগুলো মানুষ কষ্ট করছি। চেষ্টা করছি। ওপরে একটু পরপর রিপোর্ট করছি। আমাদের কষ্টটা তোমাকে বুঝতে হবে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা, আলোচনা চলছে। অসহায় মানুষটির শ্বাস-প্রশ্বাস তখন আসে যায়। এ সময় মেডিকেলের অ্যাম্বুলেন্সও এসে হাজির। এগিয়ে যায় তারাও। বাকি ডিপার্টমেন্টগুলো বলল, ভালো হয়েছে তোমরা এসেছো। জরুরী উদ্ধার কমিটি হয়েছে। ক্রান্তিলগ্নে সবাইকে কাজ করতে হবে। সবাই মিলে একটা সিদ্ধান্তে আসতে হবে। দেখতে হবে কার কী দায়িত্ব। প্রটোকল অনুযায়ী কে কীভাবে কাজ করবে। এখানে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর বিষয়ও আছে। বিশেষ করে মানবাধিকার সংস্থার মতামত একবিংশ শতাব্দিতে অতীব গুরুত্বপূর্ণ। তাদের প্রতিক্রিয়াও দেখার বিষয়। সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত হয়। ফ্লাডলাইট লাগানো হয় উদ্ধার অভিযানের সুবিধার্থে। মিডিয়া লাইভ চলছে সন্ধ্যা থেকে। রাতের টকশোগুলোতেও এ নিয়ে আলোচনা চলছে। সিদ্ধান্ত ঝুলতে থাকে। সমন্বয় ও উদ্ধারের জন্য আনা জিনিসপত্রের মান নিয়ে সুশিল সমাজ সরব। কিন্তু ততক্ষণে গাছের নীচে লোকটার দম তখন যায় যায়। পরের দিনের সংবাদ শিরোনাম ইন্নালিল্লাহি…রাজেউন।

আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কাকে বলে এই গল্প থেকে অনেক কিছু শেখার আছে। কোভিড ১৯ মোকাবেলায় স্বাস্থ্য মন্ত্রী ও ডিজির বিপরীত ধর্মী কথাবার্তা পর্যালোচনা করলে ফ্ল্যাশব্যাকে ভেসে আসবে অনেক কাহিনী। ঘুরপাক খাবে প্রশ্ন। উত্তর নাই। মোটকথা প্রটোকল, আইন, বিধি, সার্কুলার, বাজেট, পরিকল্পনা সমীক্ষা, তদন্ত, পর্যালোচনা সহ বিভিন্ন আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কোভিড-১৯ এর চলমান উদ্বেগজনক প্রেক্ষাপটের ফসল। শারীরিক দুরত্ব বজায় রাখার পরিবর্তে সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখার স্লোগান বাস্তবায়ন করতে গিয়ে আমরা ইতিমধ্যে বিসর্জন দিয়েছি মানবিকতা। এখন মনে হয় জরুরী অসুস্থতায় আমাদেরকে চিকিৎসা ছাড়াই মরার প্রস্তুতি নিতে হবে! এ আশংকা আমার অসুস্থ মাকে নিয়েও। আমিও রয়েছি হার্নিয়ার ব্যথায় সেই কাতারে। কিন্তু মরেও যে শান্তি নাই। লাশ দাফন, জানাজায়ও বিধি ও আমলাতন্ত্র। মোট কথা মরলেও আমলাতন্ত্র ছাড়ছেনা। তাই ‘স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি চাই’ স্লোগানটির সংশোধন এখন অপরিহার্য। প্রেক্ষাপট দেখে মনে হয় ‘চিকিৎসায় মৃত্যুর গ্যারান্টি চাই’ স্লোগানটি এখন যথাযথ।

লেখক: উপদেষ্টা সম্পাদক, দৈনিক নতুন সময়।




লাকসাম পৌর নির্বাচনে মেয়র পদে সম্ভাব্য প্রার্থী নবাব ফয়জুন্নেছার পরিবারের সদস্য আয়াজ

কেমন বাংলাদেশ চাই?

লাকসাম টু আমেরিকা গ্রুপে শিশুদের ছবি প্রতিযোগিতার পুরষ্কার বিতরণ

লাকসাম পৌর নির্বাচনে মেয়র পদে বিএনপি’র সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশা আবুল হাসেম মানু: শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত মাঠে থাকার দৃঢ় প্রত্যয়

লাকসামের কামড্যা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি মোশারফ কাঞ্চন

নেতৃবৃন্দের রোগমুক্তি কামনায় লাকসামে যুবদলের মিলাদ ও দোয়া

দায়িত্ব গ্রহণের বর্ষপূর্তিতে শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় সিক্ত হলেন নাঙ্গলকোটের ইউএনও লামইয়া সাইফুল

কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা যুবদল সভাপতি ওয়াসিমের সু-স্বাস্থ্য কামনায় লাকসামে মিলাদ ও দোয়া

সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রদল নেতা সফিকুর রহমানের নির্দেশনায় লাকসাম-মনোহরগঞ্জে বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

লাকসামে উৎসবমুখর পরিবেশে বিএনপি’র ৪২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

নাঙ্গলকোটে পুলিশের গুলিতে স্কুুল ছাত্রসহ ২ জন গুলিবিদ্ধ: এএসআই আবদুর রহিমের কর্মকান্ডে এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ

লাকসামে তিনজনের শরীরে করোনার উপসর্গ : আইইডিসিআর-এ নমুনা প্রেরণ

প্রবাসীদের নিয়ে নাঙ্গলকোটের ইউপি মেম্বার জুলাসের কটুক্তি: দেশ-বিদেশে প্রতিবাদের ঝড় 

লাকসামের মুদাফরগঞ্জ বাজারে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে ব্যবসায়ী খুন

নাঙ্গলকোটে বিএনপি অফিসে তালা দিলেন আওয়ামী লীগ নেতা: অভিযোগ বিএনপি নেতার

নাঙ্গলকোটে চাচার সেফটি ট্যাঙ্ক থেকে ভাতিজার বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার!

লাকসামের জনপ্রিয় গাইনী বিশেষজ্ঞ ডা. লতিফা আহমদ লতা করোনায় মারা যাওয়ার গুজব ছড়ানো হলেও শতভাগ সুস্থ

লাকসামের সেই দুই সহোদরের পরিবারের নতুন ৬ জন করোনায় আক্রান্ত : সর্বমোট আক্রান্ত ১০

স্ত্রী ও সন্তানের স্বীকৃতি পেতে ডেনমার্ক থেকে নাঙ্গলকোটে এলেন এক নারী

নাঙ্গলকোটে আট বছর বয়সী চাচাতো বোনকে মুখ চেপে ধর্ষণ করতো আপন জেঠাতো ভাই