সামছুল আলম সাদ্দাম:
সকাল হলো ঠিকই। কিন্তু গতকালের মতো করোনাযুক্ত হয়ে! বন্দী হওয়ার সংখ্যা আরো বাড়িয়ে দিয়ে। শপিং মল খুলে দেওয়ার কথা শুনে সবাই অনেক বেশি আতংকিত হবার কথা বললেও বাস্তবে তা দেখা যাচ্ছে না। মার্কেটে খোলার কথা নিয়ে জটলা বাধাচ্ছে ৮/১০ জন মিলে। সামাজিক দুরত্ব কাকে বলে তারা তো ভুলে গেছে!
সারাবিশ্বে করোনার সংখ্যা ৩৭ লাখের কাছাকাছি মৃত্যু সংখ্যা ও কম নয়; সুস্থও হচ্ছে দিনদিন কিন্তু মেডিসিন আবিস্কারের কথা নিশ্চিতভাবে কেউ বলতে পারতেছেনা। তাতে হতাশ না হয়ে থাকার উপায় নাই!
আজ থেকে ঠিক এক মাস আগে আমাদের দেশের আক্রান্তের সংখ্যা ছিলো ৭০ জন। কিন্তু আজ ১১৭১৯ জনে এসে দাঁড়ালো। দশকের ঘর পেড়িয়ে একেবারে ওজুতের ঘরে! ঠিক পরবর্তী মাসের এই দিনে কি অবস্থা হয় তা একমাত্র আল্লাহই জানেন। নিরব এই ঘাতক নিরবভাবে ছড়িয়ে যাচ্ছে জন থেকে জনে। আমরা তবুও বেহুস হয়ে আছি আমাদের কর্মকান্ডে। গুড়ি গুড়ি বৃষ্টির পরে যে ভারী বর্ষণের জন্ম নেয় তা আমরা বারবার ভুলে যাচ্ছি! মাঝে মধ্যে মনে হয় এই অদৃশ্য ভাইরাসের কথা বাদ দিই কিন্তু দিতে পারি না ; আবার চলে আসে মনে। ছোট ভাতিজী এই ঘর থেকে ঐ ঘরে হামাগুড়ি দিয়ে যাচ্ছে আর খেলতেছে নিজ মনে। আমিও তার সাথে কিছুক্ষণ খেললাম, ছোট বাচ্চাদের সাথে সময় কাটালে মনটা ভালো হয়ে যায়। আব্বা বললেন, মসজিদ খুলে দিচ্ছে। আসলেই যারা সবসময় মসজিদে নামাজ আদায় করেন উনাদের জন্য অনেক কষ্টের ঘরে নামাজ পড়াটা তাও ১ মাসের বেশি হয়ে গেল। মহান আল্লাহ পরিক্ষা নিচ্ছেন আমাদের থেকে এই ভাইরাস দিয়ে। যোহরের নামাজ আদায় করে নিলাম, পরবর্তীতে দেখলাম করোনার সংবাদ প্রচার করতেছে আজ সুস্থতার কথা আগে বলতেছে , সুস্থতার সংখ্যা বাড়ছে কিন্তু আক্রান্তের সংখ্যা কমতেছে না। এই যেন প্রতিদিনের একই সংবাদ! বাইরে না যাওয়াতে শরীর একবারে অলস হয়ে আছে। তাই ঘরের কিছু কাজ করলাম, কিছুক্ষণ পর মোবাইলটা হাতে নিয়ে ফেসবুক অন করাতে দেখি একটা সংবাদ তা দেখে খুবই মর্মাহত হলাম! একটা সন্তান তার মৃত পিতাকে একলা কবর দিচ্ছে কেউ পাশে নেই করোনার ভয়ে। এই যেন অন্ধকার কবরে থাকার অনুভূতি এই দুনিয়ায়! মহান আল্লাহ কখন যেন আমাদের এই মুসিবত থেকে রক্ষা করেন। কিছুক্ষণ বই পড়লাম মনকে ভালো করার জন্য, ততক্ষণে সন্ধ্যা নেমে এলো, সন্ধ্যা নামলে ও এখন আর সন্ধ্যা মনে হয় না ঘরে থাকাতে রাত দিন একই হয়ে গেছে! সুন্দর সকালে হবে আবির্ভাব; আবার ফিরে পাবে সবকিছু নতুন প্রাণ এটাই একমাত্র কামনা।
লেখক: সহ-সভাপতি, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ
ঢাকা মহানগর উত্তর।