ডেস্ক রিপোর্ট: নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ে ৩৩৯ জন কর্মচারীর নিয়োগ নিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) সঙ্গে অন্য চার নির্বাচন কমিশনারের দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে।
জানা গেছে, গত ফেব্রুয়ারিতে ইসি সচিবালয়ের মাঠপর্যায়ের কার্যালয়ে ১২তম থেকে ২০তম গ্রেডের ১০টি পদে ৩৩৯ জনকে নিয়োগ দেওয়ার বিজ্ঞপ্তি দেয় ইসি সচিবালয়। এতে মোট ৮৫ হাজার ৮৯৩ জন আবেদন করেন। চলতি মাসে নিয়োগ চূড়ান্ত করে নিয়োগপত্র ছাড়া হয়।
এই নিয়োগ চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে চার কমিশনারের মতামত বা অনুমোদন নেওয়া হয়নি। ইসি সচিবালয়ের সচিব নথি উপস্থাপন করার পর সিইসি নূরুল হুদা তা অনুমোদন করেন। আনুষ্ঠানিকভাবে অন্য চার কমিশনারকে কিছুই জানানো হয়নি। এতে তারা অসন্তুষ্ট হন। নাম প্রকাশ না করে একজন কমিশনার বলেন, নিয়োগের পেছনে চার কোটি আট লাখ টাকা খরচ হয়েছে। এ টাকার কোনো হিসাব নেই।
বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার, রফিকুল ইসলাম, কবিতা খানম ও শাহাদাত হোসেন চৌধুরী রোববার (২৪ নভেম্বর) সিইসি কে এম নূরুল হুদাকে একটি চিঠি দিয়েছেন।
তারা অভিযোগ করেছেন, চার কমিশনারকে আর্থিক বিষয়সহ অনেক বিষয়ে জানানো হয় না। বর্তমান অবস্থায় ইসি সচিবালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ওপর নির্বাচন কমিশনের সার্বিক নিয়ন্ত্রণ অনুপস্থিত। তারা শুধু সিইসি ও সচিবের নিয়ন্ত্রণে রয়েছেন। নিয়োগের বিষয়টিও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে সিইসি ও সচিব মনে করেন, নিয়োগসহ কিছু বিষয় ইসির এখতিয়ারের বাইরে। এটি সচিবালয়ের দায়িত্ব। সচিব সিইসির মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের কাছে দায়ী থাকবেন। সচিবালয়ের ওপর কর্তৃত্ব নিয়ে এর আগেও চার কমিশনারের সঙ্গে সিইসির বিরোধ দেখা গিয়েছিল।
ইসি সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. আলমগীর সাংবাদিকদের বলেন, চার কমিশনারের চিঠির বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। নিয়োগের বিষয়ে সচিব বলেন, ৩৩৯ জনের নিয়োগ চূড়ান্ত হয়েছে, নিয়োগপত্রও ছাড়া হয়েছে। আইনকানুন অনুসরণ করে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এটাই ইসি সচিবালয়ে প্রথম নিয়োগ নয়, এর আগেও যেভাবে নিয়োগ হয়েছে, এবারও সেভাবেই নিয়োগ চূড়ান্ত করা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়োগ পরীক্ষা নিয়েছে। অর্থ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও পিএসসির প্রতিনিধিরা মৌখিক পরীক্ষা নিয়েছেন। এরপর সিইসি অনুমোদন দিয়েছেন।